জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে অতিথি পাখি, লেকের লাল, নীল শাপলা এবং দারুণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এসব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই আজ নতুন একটি বিষয় নিয়ে বলব।
দেশের অন্যতম প্রধান এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু বিখ্যাত স্থান রয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে সারাদেশের মানুষ পরিচিত। তবে এর বাইরে কিছু ব্যতিক্রমি জায়গা ও ব্যতিক্রমি নামও আছে। যেগুলো সম্পর্কে মানুষ হয়তো কমই জানে। আর জানলেও হয়তো এটা জানেনা এরকম নামের উৎপত্তিটা হল কিভাবে। আজ জানা যাক এরকম কিছু স্থানের নাম ও পরিচিতি। টারজান, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, লন্ডন ব্রিজ, মেহের চত্ত্বর, ট্রান্সপোর্ট ক্যাম্পাসের এরকম কিছু জায়গা। শুনে অবাক লাগতে পারে অনেকের কাছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এগুলো কিভাবে আসলো! কিন্তু বাস্তবিক অর্থেই এরকম নামের স্থানের অস্তিত্ব রয়েছে।
 |
| চৌরঙ্গী ও পরিবহন চত্ত্বরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই ব্রিজটি লন্ডন ব্রিজ নামে পরিচিত। মূলত লন্ডনের টেমস নদীর তীরে অবস্থিত লন্ডন ব্রিজের মত অনেকটা দেখতে হওয়ায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এর নাম দেয় লন্ডন ব্রিজ। |
 |
| এটি টারজান পয়েন্টের ছবি। এখানে একটা সময় পুরোটাই বন ছিল যদিও এখনও এর পেছন দিকটাতে গাছ-গাছালির প্রাচূর্য আছে কিন্তু আগের মত আর নেই। অনেক গুলো ফুসকা, চটপটি, শরবতের দোকান রয়েছে এখানে। তাই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের দিনে-রাতে সবসময়ই এখানে আড্ডা দিতে দেখা যায়। মূলত আগে বন ছিলো বলেই এটার নাম টারজান পয়েন্ট হয়েছে বলে জানা যায়। |
 |
| ক্যাম্পাসের ভেতর অবস্থিত “নিউজ্যল্যান্ড” এটি। শুনতে অবাক লাগলেও এটিই সত্য। মূলত এটি শহীদ সালাম-বরকত হল ও আল-বেরুনী হলের মাঝখানে অবস্থিত একটি মাঠ। মাঠটিতে রয়েছে প্রচুর সবুজ ঘাস যা দেখতে অনেকটা নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত নেপিয়ার ঘাসের মত। এই মিলের কারণে শিক্ষার্থীরা এটির নাম দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। |
 |
| এটি ট্রান্সপোর্ট চত্ত্বর। মূলত ক্যাম্পাসের বাস এখানে দাঁড়িয়ে থাকে বলে এর নাম ট্রান্সপোর্ট চত্ত্বর। তবে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের আড্ডার অন্যতম একটি স্থানও এটি। গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষাথীদের এখানে দল বেঁধে আড্ডা দিতে দেখা যায়। |
 |
জাহাঙ্গীরনগরে অবস্থিত ‘সুইজারল্যান্ড’ এটি। মূলত সুইজারল্যান্ডের প্রকৃতির সাথে এই স্থানটার মিল পাওয়ায় এটির নাম দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ড। এটির নামও দেয় শিক্ষার্থীরাই।
বিচিত্র নামের এইসব স্থানের জন্যই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। তাই যদি কেউ বিচিত্র এই সব জায়গার অভিজ্ঞতা নিতে চান তবে চলে আসতে পারেন সবুজে ঘেরা এই নগরীতে।
|
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন